Friday, January 8, 2010

ফাঁকিঝুকি টাইপের রান্না

বাঁধাকপি ভাজি, মাছের মাথা দিয়ে পালংশাক, আর হাতে মাখানো ডাল

মাঝে মাঝে এমন দিন আসে রাজ্যের আলসেমি এসে ভর করে শরীরে, রান্না-বান্না এমনকি খাওয়া-দাওয়াটাও খুবই কষ্টের কাজ মনে হয়। কিন্তু আমার যে আলসেমি করারও অবকাশ নাই। আমি না রান্না করলে আমার তিন সদস্যের বিশাল পরিবার না খেয়ে থাকবে! অতএব আলসেমি ঝেড়ে রান্না ঘরের দিকে যাত্রা।

গত রাতে একটা বড় বাঁধাকপি কেটে রেখেছিলাম ফ্রিজে, একটা বাক্স ভরতি কুঁচানো পেয়াজও পেয়ে গেলাম। এক টিন পালংশাক আর ফ্রিজারে কেটেকুটে রাখা ইলিশ মাছের মাথা হাতে পেয়ে মনটা প্রসন্ন হয়ে গেল। বাঁধাকপি ভাজি, মাছের মাথা দিয়ে পালংশাক, আর হাতে মাখানো ডাল, এই হলো আমার আজকের মেনু।

আপনাদের জন্য জানিয়ে দিলাম রেসিপি।

বাঁধাকপি ভাজি
১) বাঁধাকপি (cabbage) কুঁচানো চার কাপ;
২) ছোট একটি টমেটো স্লাইস করা;
৩) ধনেপাতা (coriander) কুঁচি আধা কাপ;
৪) পেয়াজ কুঁচি আধা কাপ;
৫) কাঁচামরিচ পাঁচ-ছয়টি;
৬) তেল পরিমাণ মতো (আমি ক্যানোলা তেল ব্যবহার করি প্রতিদিনের রান্নায়);
৭) লবন, হলুদগুঁড়া পরিমাণ মতো;
৮) পাঁচ-ফোড়োন (cumin-seed, black cumin seed, fenugreek seed, aniseed এবং parsley seed) আধা চা চামুচ;
৯) শুকনো মরিচ দুইটি।

প্রণালী

যেহেতু আজকে আমার আলসেমি করার দিন তাই আমি একটু ফাঁকিঝুকি টাইপের ভাজি করলাম। পাঁচ-ফোড়োন আর শুকনো মরিচ বাদে বাকি সব উপকরণ ভালো করে হাতে মেখে কড়াই এ ঢাকা দিয়ে বসিয়ে দিলাম চুলায়, অল্প আঁচে।

এবার পাঁচ-ফোড়োন আর শুকনো মরিচ হালকা করে ফ্রাই প্যান এ ডেলে নিলাম (তেল দেয়া যাবে না)। কিছুদিন আগেই আম্মু একটি হামান দিস্তা পাঠিয়েছিলো পরিচিত এক বাঙালির হাতে। আমি মহার্ঘ্য এই উপকারী বন্ধুকে চুলার পাশেই রেখে দেই সবসময়। পাঁচ-ফোড়োন আর শুকনো মরিচ গুঁড়া করে নিলাম হামান দিস্তায়। আপনারা ফুড প্রসেসরেই এই কাজ করে নিতে পারেন। ভাজি হয়ে আসলেই এই গুঁড়া মশলাটা মিশিয়ে দেবো। আমি একটু বেশি করেই এই মশলা করে রাখলাম, ডাল রান্না হয়ে গেলে ছড়িয়ে দেব উপরে, এতে করে স্বাদ আর গন্ধ দুটোই বেশ ভালো জমে। ভাজি হতে থাকুক চলে যাই পরবর্তী রান্নায়।

হাতে মাখানো ডাল

১) মুসুর ডাল (red lentils), এক কাপ (পানিতে ভিজিয়ে রাখা);
২) কাঁচামরিচ, আট থেকে দশটি;
৩) পেয়াজ কুঁচি এক কাপ;
৪) রসুন কোয়া পাঁচটি;
৫) ধনেপাতা কুঁচি আধা কাপ;
৬) সরিষার তেল তিন টেবিল চামচ;
৭) হলুদ গুঁড়ো ও লবন পরিমাণ মতো।

প্রণালী

ডাল ধুয়ে, পানি ঝরিয়ে,যে পাতিলে রান্না করব তাতে ঢালি। এখন ধনেপাতা বাদে বাকি সব উপকরণ ভালো ভাবে মাখিয়ে অল্প আঁচে চাপিয়ে দেই চুলায়। এই রান্না বেশি সময় নেবে না কারণ ডাল আগে থেকেই ভেজানো ছিলো। ডাল সেদ্ধ হলে ধনে পাতা কুঁচি আর আগে থেকে করে রাখা মশলা তার ওপরে ছড়িয়ে দিয়ে পরিবেশন করবো।

পালং শাক আর ইলিশ মাছের মাথা চচ্চড়ি
উপকরণ

১) পালং শাক কুঁচি (আমি ১৬ আউন্সের এক ক্যান ব্যবহার করেছি)
২) একটি ইলিশ মাছের মাথা টুকরো করে কাটা
৩) পেয়াজ কাটা আধা কাপ মতো
৪) ৫টি কাঁচামরিচ
৫) ৩টি বড় রশুনের কোয়া।
৬) জিরা গুঁড়া এক চা চামুচ
৭) ধনে গুঁড়া আধা চা চামুচ
৮) সরিষার তেল পরিমাণ মতো
৯) লবন ও হলুদ গুঁড়া

প্রণালী

ইলিশ মাছের মাথা ভালো করে ধুয়ে পরিস্কার করে লবন হলুদ গুঁড়া মাখিয়ে রেখে দিলাম। এই ফাকে পালংশাক ক্যান থেকে বের করে পানি খুব ভালো ভাবে ঝরিয়ে নিতে হবে। ক্যানড ভেজিটেবল সাধারনত সিদ্ধ করাই থাকে আগে থেকে। অতএব আমার কষ্ট খানিকটা কমল আরকি! কড়াইতে সরিষার তেল গরম করে পেয়াজ বাদামি করে ভাজি। আমি সরিষার তেল ব্যবহার করেছি কারন ইলিশ মাছ আর শাকভাজিতে যদি সরিষার তেল ব্যবহার করা হয় তাহলে স্বাদটা বেশ ভালো হয়। রশুনের কোয়াগুলো একটু ছেঁচে নিয়ে পেয়াজের ভেতর ছেড়ে দেই, একটু হাল্কা নাড়িয়ে কাঁচামরিচ আর ইলিশ মাছের মাথার টুকরোগুলি দিয়ে দেই কড়াইতে। একটু ভাজা ভাজা হয়ে আসলে জিরে আর ধনেগুঁড়া সামান্য পানিতে গুলে কড়াইতে দিয়ে ঢেকে রান্না করি তিন থেকে চার মিনিটের মতো।

খেয়াল রাখতে হবে আঁচটা যেনো বেশি না হ্য়, কারণ এই রান্নায় আলাদা করে কোনো পানি দেয়া হয়নি। শাকটা রান্না হতে থাকা মাছের মাথার মিশ্রণে দিয়ে ভালো ভাবে মিশাতে হবে। এখন প্রয়োজন পরিমাণ মতো লবন। অনেক ক্যানড শাকের ভেতর আগে থেকেই লবন দেয়া থাকে, আমার শাকটা অবশ্য লবন ছাড়াই ছিলো। আঁচটা বাড়িয়ে মাছ আর শাকটা ভালো মতো নাড়াচড়া করলাম আর তিন মিনিট। এই রান্নাটা হবে মাখা-মাখা, কোনো ঝোল থাকবে না। ভাজা জিরাগুঁড়া থাকলে রান্না শেষে ছড়িয়ে দেয়া যেতে পারে তরকারির উপরে।

আজকের মতো আমার রান্না শেষ।

© সুমনা রহমান

0 Comments: